বাংলাদেশ সাংবাদিক জোট

গঠনতন্ত্র

ধারা ১। ফাউন্ডেশনের সদস্য পদ লাভের যোগ্যতা:
কেবলমাত্র বাংলাদেশী নাগরিক এবং এই ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমূহের সাথে একমত পোষণকারী সাংবাদিক, সাহিত্যিক, প্রবন্ধকার ও নিবন্ধকারগণ সর্বনিম্ন ১৮ বছর বয়সের বাস্তব জীবনে সৎ চারিত্রবান, নৈতিক গুণসম্পন্ন, সুস্থ্য মস্তিষ্ক, যে কোন ব্যাপারে বিচার বিশ্লেষণ, ভাল-মন্দ প্রমাণে সিদ্ধান্ত দেবার মত বুদ্ধিমান, ঝুঁকি নেবার মত সাহসী, কাজের ঐকান্তিকতা, নিষ্ঠাবান ও যোগ্য ব্যক্তি ইচ্ছা করলে সভাপতি বরাবর সদস্য পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রদ্রোহী ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য কোন ব্যক্তি অত্র ফাউন্ডেশনের সদস্য হতে পারবেন না।

ধারা ২। ফাউন্ডেশনের সদস্য পদ লাভের পদ্ধতি:
(ক) অত্র ফাউন্ডেশনে ভর্তি ইচ্ছুক ব্যক্তিকে কমপক্ষে ২ (দুই) জন সদস্যের সুপারিশসহ অত্র ফাউন্ডেশন কর্তৃক নির্ধারিত আবেদন পত্রের মাধ্যমে সভাপতির নিকট আবেদন করতে হবে।
(খ) সদস্যদের ভর্তি ফি ২০০/- (দুইশত) টাকা এবং মাসিক চাঁদা ১০০/- (একশত) টাকা।
(গ) ফাউন্ডেশনের সভাপতি জমাকৃত সকল ধরনের সদস্যদের আবেদনপত্র পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক অনুমোদনের জন্য পেশ করবেন এবং অনুমোদন সাপেক্ষ্যে সদস্য খাতায় লিপিবদ্ধ করবেন।

ধারা ৩। ফাউন্ডেশনের সদস্যদের শ্রেণিবিভাগ:
অত্র ফাউন্ডেশনটিতে নিম্নলিখিত ৫ (পাঁচ) ধরনের সদস্য থাকবে।
(ক) সাধারণ সদস্য
(খ) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
(গ) দাতা সদস্য
(ঘ) আজীবন সদস্য
(ঙ) সহযোগী সদস্য

(ক) সাধারণ সদস্য : বর্ণিত শর্তাবলী সাপেক্ষে সদস্যপদ লাভের জন্য বিবেচিত যে কোন সদস্য ভর্তি ফি ২০০/- (দুইশত) এবং মাসিক চাঁদা ১০০/- (একশত) টাকা করে সদস্য হতে পারবেন। ভর্তি ফি ও মাসিক চাঁদা কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে কমবেশি করা যাবে।

(খ) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য : যাদের সার্বিক উদ্যোগে ও স্বাক্ষরদানে অত্র প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়, তারা সবাই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বলে গণ্য হবেন। উক্ত সদস্যগণ ফাউন্ডেশনের সর্বোচ্চ পরিষদের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন।

(গ) দাতা সদস্য : যিনি সর্বনিম্ন ৫০০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা বা সম পরিমাণ কোন বস্তু ফাউন্ডেশনে দান করবেন, তিনি দাতা সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। এই শ্রেণির সদস্যগণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সভায় উপস্থিত হতে পারবেন এবং ফাউন্ডেশন সংক্রান্ত নিজ নিজ মতামত পেশ করতে পারবেন। কিন্তু ভোট দিতে কিংবা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

(ঘ) আজীবন সদস্য : কোন সদস্য এককালীন ৫০০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা বা এর সমপরিমাণ মূল্যের সম্পদ প্রদান করেন তাহলে তাকে ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য বলে গণ্য করা হবে। তবে কার্যনির্বাহী পরিষদের তিন ভাগের দুই ভাগ সদস্যদের অনুমোদন থাকতে হবে।

(ঙ) সহযোগী সদস্য : অত্র ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে একমত পোষণকারী বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব ফরমে আবেদন করে সহযোগী সদস্যপদ লাভ করতে পারবে। সহযোগী সদস্য পদ লাভের জন্য ১০০/- (একশত) টাকা ভর্তি ফি এবং ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা মাসিক চাঁদা প্রদান করতে হবে। সহযোগী সদস্যগণ ভোটাধিকার প্রাপ্ত হবেন না।

ধারা ৪। ফাউন্ডেশনের সদস্য পদ বাতিল, অন্য পদ পূরণ ও পুনঃবহাল :
(ক) সদস্য পদ লাভের শর্তাবলীর নিরিখে সর্বোচ্চ পরিষদ যার সম্পর্কে এই ফাউন্ডেশনের সদস্য থাকার যোগ্য নন বলে সিদ্ধান্ত নেবেন, তিনি সদস্য পদ হারাবেন।
(খ) কোন কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য পর পর তিনটি সাধারণ সভায় সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের পূর্ব অনুমতি ব্যতীত অনুপস্থিত থাকলে কার্যনির্বাহী পরিষদ ইচ্ছা করল তাঁর সদস্য পদ বাতিল বলে গণ্য করতে পারবেন।
(গ) যদি কোন সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে পদত্যাগ করেন।
(ঘ) অত্র ফাউন্ডেশনের সংবিধান অমান্য করলে।
(ঙ) ফাউন্ডেশনের শৃঙখলা, স্বার্থের পরিপন্থী কোন কাজ করলে।
(চ) সদস্য পদ প্রাপ্তির পর ৩ (তিন) মাস চাঁদা বাকী থাকলে।
(ছ) চরিত্রহীন, নেশাগ্রস্থ কোন ব্যক্তি, সমাজ বিরোধী, রাষ্ট্র বিরোধী কাজে লিপ্ত থাকলে, আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হলে, মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসংগতি দেখা দিলে, মৃত্যু হলে।
(জ) ফাউন্ডেশনের উন্নয়ন কার্যক্রমে কোন প্রকার সাহায্য, সহযোগিতা না করেন বা অর্পিত দায়িত্ব পালনে অনীহা বা অনিচ্ছা প্রকাশ করেন বা ফাউন্ডেশনের সাথে কোনরকম যোগযোগ রক্ষা না করেন।
(ঝ) কোন স্তরের কর্মকর্তা বা সদস্য ফাউন্ডেশনের স্বার্থ ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে ফাউন্ডেশনের স্বার্থে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক যৌথ সিদ্ধান্তে যে কোন স্তরের সদস্যপদ সাময়িক বাতিল করতে পারবেন।

শুন্য পদ পূরণ :
কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন সদস্য পদ শুন্য হলে কার্যনির্বাহী পরিষদের সর্বসম্মতি ক্রমে ঐ শুন্যপদ পূরণ করা হবে।

সদস্য পদ পুনঃবহাল:
যে কারণে সদস্যের সদস্য পদ বাতিল হয়েছে তাকে উপযুক্ত কারণ দর্শায়ে সদস্য পদ পুঃন বহালের জন্য সহ-সভাপতির নিকট আবেদন করবেন। পরে তিনি সভাপতির অনুমোদন ও কার্যনির্বাহী পরিষদের বিবেচনাক্রমে সদস্যপদ পুনঃ বহালের ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

ধারা ৫। সদস্যদের অধিকার ও সুবিধা :
১। প্রতিষ্ঠাতা পরিষদের সদস্যসহ সাধারণ সদস্যদের ভোটাধিকার থাকবে।
২। ফাউন্ডেশনের সকল প্রতিষ্ঠানে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সদসগণ অগ্রাধিকার পাবেন।

ধারা ৬। ফাউন্ডেশনের তহবিল (আয়-ব্যয়) :

আয়:
ক) সদস্যদের ভর্তি ফি, চাঁদা ও দান।
খ) শুভাকাঙ্খীদের দান ও বিনিয়োগ।
গ) সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কল্যাণমূলক দেশী-বিদেশী দাতা সংস্থার দান, অনুদান।
ঘ) বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা।
ঙ) অন্যান্য উৎস হতে আয়।

ব্যয়:
ক) অফিস ভাড়া টেলিফোন, ইন্টারনেট, ফ্যাক্স, কারেন্ট বিল পরিশোধ বাবদ।
খ) আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ।
গ) কর্মচারীদের বেতন বাবদ।
ঘ) পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সদস্য ও কর্মচারীদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ বাবদ।
ঙ) প্রকল্প খাতে ব্যয়।
চ) ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় বিভিন্নখাতে ব্যয় বাবদ।
ছ) প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শনার্থে যানবাহন খাতে ব্যয় বাবদ।
জ) ফাউন্ডেশনের নামে তহবিল সংগ্রহ তথা উন্নয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কান্ট্রি ডিরেক্টরদের ব্যয়ভার বহন বাবদ।
ঞ) ফাউন্ডেশনের প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি, গৃহীত নীতিমালা তৈরি, প্রশিক্ষণ, ওরিয়েন্টশন ও সভা সেমিনারের জন্য ব্যয়।
ট) বিবিধ ব্যয় বাবদ।

ধারা ৭। সাংগঠনিক কাঠামো:
এই ফাউন্ডেশনের পরিচালনার জন ৬ (ছয়) টি সাংগঠনিক কাঠামো বা পরিষদ থাকবে।
ক। কার্যনির্বাহী পরিষদ।
খ। উপদেষ্টা পরিষদ।
গ। সাধারণ পরিষদ।
ঘ। পৃষ্ঠপোষক পরিষদ।
ঙ। সর্বোচ্চ পরিষদ।
চ। জেলা কমিটি।

এছাড়াও ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনে যে কোনো স্থানে কমিটি গঠন করা যাইবে।